গত ১৪ আগস্ট , ২০১৮ পুরুলিয়া জেলার কাটাবেড়া গ্রামের বাসিন্দা মধুসূদন মাহাত তথা ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির পুরুলিয়া জেলা সম্পাদক রাজ্য সরকারের নিকট তথ্যের অধিকার আইন – ২০০৫ অনুযায়ী নিম্নলিখিত তথ্যগুলি জানতে চেয়েছিলেন –
1) গত ইংরেজি ২০০৯- ২০১৮ সাল অবধি এই রাজ্যে কত জন ব্যক্তি ডাইনি সন্দেহে হত্যার শিকার হয়েছেন ?
2) ২০০৯- ২০১৮ সাল অবধি মোট কতজন ব্যক্তি ডাইনি সন্দেহে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ?
3) ডাইনি সন্দেহে নির্যাতন বন্ধ করার জন্য সরকার কী কী কাজ করে থাকে ?
4) ডাইনি প্রথা বন্ধে সরকারের কী আইন রয়েছে ?
5) কোন ব্যক্তিকে ডাইনি সাবস্ত করার জন্য ওঝা বা জাণগুরু মূখ্য ভূমিকা নিয়ে থাকে । তাই ডাইনি হত্যা বা নির্যাতন কমিয়ে আনতে ২০০৯-২০১৮ সাল অবধি কত জন ওঝা বা জাণগুরুকে আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তার বা শাস্তি দেওয়া গেছে ?

কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘ স্টেট ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরো ‘ আজকে মধুসূদনবাবুর বাড়ীতে পৌঁছানো রিপোর্টে জানিয়ে দিল , তাঁরা এরকম তথ্য উনাকে সরবরাহ করতে পারবেন না , কারণ তাদের অফিস এই ধরণের ডাইনি সংক্রান্ত নথিভূক্ত করে না ।
মধুসূদনবাবু আজ সকালে চিঠি পেয়ে রীতিমত চমকে যান । চমকানোর কথা রাজ্যের যেকোন ব্যক্তিরেই , কারণ রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন আদিবাসী এলাকায় প্রায়ই ডাইনি সন্দেহে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে এবং তা বিভিন্ন খবরের কাগজে দেখে থাকেন । বিভিন্ন যুক্তিবাদী সংগঠন ও বিজ্ঞান সংগঠনকে এর বিরুদ্ধে প্রচার করতেও দেখে থাকেন । অথচ রাজ্যের ভাণ্ডারে এর কোন তথ্য নেই কেন ? এরকম প্রশ্নের উত্তরে মধুসূদনবাবু সীমারেখাকে জানান , ” আসলে এই রাজ্যে ডাইনি সন্দেহে অত্যাচার বিরোধী কোন বিশেষ আইন নেই , তাই রাজ্য ঐগুলিকে মানসিক বা শারীরিক অত্যাচারের জন্য যে প্রচলিত আইন রয়েছে সেই আইন অনুযায়ী নথিভূক্ত করে , তাই এই বিস্ময়কর তথ্য । সেজন্য , আমরা ঠিক করেছি এই তথ্যের ভিত্তিতে এই রাজ্যে ডাইনি অত্যাচার বিরোধী দ্রুত আইন কার্যকর করার দাবী জানাব ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here